সাবধান! ভুলেও হেলাফেলা করবেন না এইসব লক্ষ্মণকে, কোলেস্টেরল মাত্রা ছাড়ালেই বাড়বে বিপত্তি
আজকাল ঘরে ঘরে মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরলের (Hyperlipidemia) সমস্যায় জেরবার মানুষ। একাধিক রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে দেশের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে এক জন কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অনিয়মিত জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, শুধু তাই নয় শরীরচর্চার অভাব সহ বিভিন্ন কারণের জন্যেই অল্প বয়সে শরীরে বাসা বাঁধছে এই ক্রনিক রোগ। ফলে, নানান ধরণের হার্টের অসুখের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই সময় থাকতে থাকতেই সবার আগে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হার্ট জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ভারতের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ১৫% হাই কোলেস্টেরলের (Hyperlipidemia) সমস্যায় ভুগছেন। আসলে, ভারতীয়দের মধ্যে হাই কোলেস্টেরলের সমস্যা প্রধানত জিনগত। যাদের পরিবারে এই সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে তো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়ঙ্কর কোলেস্টেরলের সমস্যা শরীরকে ছেঁকে ধরবে। এই বিষয়ে বলা যায়, যদি অন্যান্য দেশে কোলেস্টেরলের সমস্যা শুরু হয় ৬২ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে, সেখানে ভারতীয়দের সমস্যা হবে আরও অনেক আগে থেকেই।
এবার অনেক সময়েই বোঝা যায় না যে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে কি না। তবে চিকিৎসকদের মতে, খুব হাই কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে শরীরে ফুটে ওঠে কিছু উপসর্গ। লক্ষণগুলির ব্যাপারে আগে থেকে জানা থাকলে রোগ নির্ণয় করার পাশাপাশি চিকিৎসা শুরু করতেও অনেকটাই সুবিধা হয়। উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে চোখের পাতার উপরের পৃষ্ঠে সাদা বা হলুদ রঙের হালকা দাগ কিংবা চোখের মণির চারপাশে সাদা গোল গোল দাগ দেখা যায়। কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে পা ভারী হয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে সহজেই। এছাড়াও, ঘন ঘন শিরায় টান ধরে ত্বকে কালশিটের মতো দাগ পড়তে শুরু করলেই বুঝতে হবে কোলেস্টেরলের ওষুধ খাওয়ার সময় এসেছে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না রাখলেই জন্ম নেয় আরও অনেক শারীরিক সমস্যা। এখন প্রশ্ন হল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে? কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেশি থাকলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না রাখলে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তনালিগুলি সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়।চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘অ্যাথেরোস্কেলোরোসিস’। কোলেস্টেরল সঙ্গে ডায়াবেটিসেরও একটি যোগ রয়েছে। রক্তচাপের পরিমাণ বাড়তে পারে কোলেস্টেরলের কারণে।
চলুন এবার একটু জেনে নেওয়া যাক, কী কী অভ্যাস বদলালে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। চিকিৎসকেদের পরামর্শ, রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ডিনারের জন্য একদম হালকা খাবার খেয়ে নিতে পারলে ভাল হয়। রাত জেগে মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা কমিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত মদ্যপানে কোলেস্টেরল চড়চড় করে বাড়ে। পাশাপাশি, কয়েকটি যোগাসন যদি মন দিয়ে রোজ করতে পারেন, কোলেস্টেরল অনেকটা বশে থাকবে। নিয়মিত অভ্যাস করতে পারেন ত্রিকোণাসন, তাড়াসন, ভুজঙ্গাসন। তাই, কোলেস্টেরল বাড়লেও সুস্থ থাকার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মত চলুন, উপকার মিলবে।





